বেগুনের মোজাইক ভাইরাস রোগঃ🍆🍆

 

✅রোগের লক্ষণঃ

১. প্রথমে পাতায় হলুদ ছোপ ছোপ দাগ পড়ে এবং একসময় সমস্ত পাতা হলুদ হয়ে যায়।

২. গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, গাছ তুলনা মূলক খাঁটো আকৃতির হয়।

৩. ভাইরাস আক্রান্ত গাছে ফুল ফল ধারন কমে যায়।

✅রোগের কারণঃ

মোজাইক ভাইরাস মূলত বীজ বাহিত রোগ হলেও পরবর্তীতে বাহক পোকা যেমন সাদা মাছি, জাব পোকা ও শ্যামা পোকা দ্বারা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

✅প্রতিরোধ ব্যবস্থাঃ

১. ভাইরাস আক্রান্ত গাছ বা ক্ষেত থেকে বীজ সংগ্রহ করা যাবে না।

২. বীজ শোধনের পর বীজতলায় বীজ বপন করতে হবে।

৩. মাটিতে সরাসরি বীজ বপন না করে প্লাস্টিকের ট্রেতে কোকোপিট দিয়ে চারা তৈরি করতে হবে।

৪. মাটিতে সরাসরি বীজ বপন করলে অবশ্যই বীজতলার মাটি শোধন করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে ডলোচুন প্রয়োগ করে মাটি শোধন করা সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতি।

৫. মাটির পিএইচ মান ৬.৫-৭.০ পর্যন্ত রাখতে হবে।

৬. চারা মূল জমিতে রোপণের আগে চারা  শোধন করতে হবে এবং অবশ্যই মাটি শোধন ও মাটির পিএইচ ৬.৫-৭.০ নিশ্চিত করতে হবে।

✅রোগ হয়ে গেলে প্রতিকারঃ

 উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে চারা রোপণ নিশ্চিত করতে হবে। তবে এরপরও যদি রোপণকৃত চারায় ভাইরাস রোগের লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে আপনার জন্য করণীয়ঃ

১. আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলে নতুন করে চারা রোপণ করবেন।

২. চারা রোপণের ২ সপ্তাহ পর থেকে বাহক পোকা দমনে কার্যকরী কীটনাশক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে স্প্রে করতে হবে।

৩. চারা গাছকে রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে ২ সপ্তাহ পর- 

✅১ম স্প্রে হিসেবে পাকলু ৩০ এসএফ (ক্লোথিয়ানিডিন+ ফ্লুডিঅক্সোনিল+পাইরাক্লোস্ট্রোবিন) গ্রুপের বালাইনাশক ১ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করে দিবেন।

✅২য় স্প্রে হিসেবে ৩ দিন পর-

ইপসো-টপ ১০ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে বিকেল বেলা স্প্রে করে দিবেন।

✅৩য় স্প্রে ৭ দিন পর-

পাকলু ১ মিলি+ ব্লু ম্যানকোজেব ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানির জন্য, একসাথে মিশিয়ে স্প্রে করে দিবেন।

✅৪র্থ স্প্রে হিসেবে ১০ দিন পর- 

পাইরিফেন ১০.৮ ইসি অথবা জামির ২০ ইসি ১ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে বিকেল বেলা স্প্রে করে দিবেন।

✅৫ম স্প্রে হিসেবে ১৫ দিন পর-

পাকলু ১ মিলি + ডুরা ০.৫ গ্রাম প্রতি লিটার পানির জন্য একসাথে মিশিয়ে বিকেল বেলা স্প্রে করে দিবেন।

এরপর থেকে ১০ দিন পর পর মাসে ৩ বার পাকলু বালাইনাশক স্প্রে করে যাবেন এবং অন্যান্য পরিচর্যা যেমন সার, সেচ আগাছা পরিষ্কার, ফুল ফল বৃদ্ধির জন্য ফ্লোরা (নাইট্রোবেনজিন) অন্যান্য অনুখাদ্য  প্রয়োগ এবং বাহক পোকা ও রোগ দমনে কার্যকরী ছত্রাকনাশক কীটনাশক স্প্রে চালিয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ ভাইরাস রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার করে নির্বিঘ্নে বেগুন চাষ সফলতা পাবেন। ধন্যবাদ 

ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত


Popular posts from this blog

“নওগাঁয় মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা”

পুদিনা চাষ ও গুনাগুন

কুরবানীর ইতিহাস: